[34312 ১1] 110]

বেঙ্গল পাবলিশা্গ

বলিকাভা.$২

হি ৮৯১.৪৪৩

11 / পরী? 4 পাশে

প্রথম সংন্করণ--আধাঢ ১৩৫৬

দ্বিতীয় সংস্করণ-_ বৈশাখ, ১৩৬২

প্রকাশক- শচীন্ত্রনাথ মুখোপাধ্যায়

বেঙ্গল পাবলিশার্স

১৪, বস্গিম চাটুজ্জে দ্্রীট

কলিকাত!-১২

মুদ্াকর- শ্ীকাতিকচন্ত্র পাও

মুদ্রণী

৭১, কৈলাস বোস স্রীট

কলিকাতা-৬ ৬৩ ১৩.

্রচ্ছদপট শিল্পী 51816 0খা বি 1185 ৬/557 8613081-

আগু বন্দ্যোপাধ্যায়

রক প্রহরপট দু 0801), ভারত ফোটোটাইপ ডিও চারি বাধাই-_বেজগল বাইগান”

ছু” টাকা

উৎজ্র্গ কমলবাছিনীল স্মলণে

ত্বাতায়ুনে

রাস্তার ধারেই পড়বার ঘর। সেই ঘরের রাস্তার দিকের দুটো জানালা খুলে আমর! ছুই ভাই বসে আছি -পথের দিকে চোখ মন খুলে। একটু আগেই শিশি-বোতল-বিক্রিওয়ালার কাছে এক সের ট্রেটস্ম্যান পত্রিক। ছু-আনাঁয় বেচে ছ-পয়সায় ছ-টা কালো-জাম কিনে এক-এক জন তিনটে ক'রে থেয়ে দেহ মন পরিতৃপ্ত কালো-জাম গাছে ফলে না, ফলে ময়রার দৌকানে--এক রকম ছানার পাস্তয়া-গোছের জিনিষ। পাস্তয়াকে একটু বেশী ভেঙ্জে ওপরটা কালে৷ ক'রে রসে চোঁবানে। হয় _আজকাল সে ভ্রব্টটির আর দেখ! পাওয়া যায় না

বাকি দু-টো পয়সা হাতে নিয়ে বসে আছি--লক্গঞুনওয়ালাকে দিতে হবে, তার কাছে ধার ক'রে লজঞ্ন থাওয়। হয়েছে। ধারের কথা জানতে পারলে বাড়ীতে একেবারে জ্যান্ত পুতে ফেলবে।

রাস্তার ধারে বসে আছি--শ্রীষ্মের ছুপুর ঝণা-ঝঁ! করছে। বাড়ীতে গৃহস্থালীর কাজ-কর্ম চুকে গেছে। ম|-রা সব ঘরেগিয়ে শুয়েছেন। দুপুর বেল! একটু শব কোথাও হবার জে নেই-_রাতে ঘুম হোক বা না হোক, দিনে ঘুমের ব্যাধাত হ'লে অনর্থ হবে। আমাদের চলা-ফেরা, অকার্ধ কার্ধালাপে একটু শব্ধ হ'লেই তাদের ঘুমের ব্যাঘাত হয় অথচ পার্থ শায়িত শিশুর চীৎকারে পাড়ার লোক বিরক্ত হ'য়ে গাল গাড়তে, থাকে তবুও তাদের নিদ্রা ভাঙে ন!।

আমাদের অপরাধে ঘুম ছুটে যাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে তারা ইস্কুলের কর্তৃপক্ষকে অভিসম্পাত দিতে থাঁকেন--গমির ছুটির জন্ভ। বোঁধ হয় তার ফলেই ইন্থুল-মাষ্টারদের দুঃখ-ছুর্দশা! আজও ঘুচলো ন|।

(প্রভাত)

রাস্তার দিকে চেয়ে বসে আছি ছুই ভাইয়ে- অনাথের ম! বুড়ী স্নান ক'রে ভিজে-কাঁপড়ে চলে যাচ্ছে অনাথের মাকে পাড়ার ছেলে-বুড়ো সবাই চেনে। এ-পাড়ায় প্রায় সব বাড়ীতেই সে কাঁজ করেছে, প্রায় পঞ্চাশ বছর এ-পাঁড়াতেই তার কাটল। কোমর ভেঙে গিয়েছে তবুও আজও তাকে খেটে খেতে হচ্ছে। তার বাড়ী সেই গড়পারের কোন বন্তীর মধ্যে এখন গিয়ে সে রান্না-বান্না ক'রে খাবে, তার পরে আবার বেলা চারটে বাজতে না বাজতে কাঁজে এসে লাগতে হবে। আবার রাত্রি আটটা-নটায় বাড়ীতে গিয়ে রাম্না ক'রে খেয়ে-দেয়ে শোবে। অনাঁথের মা বলে সবাই তাকে ডাকে বটে, কিন্তু অনাথ তাঁর ছেলে নয়-_-তার এক বোন-পোকে সে মানুষ করেছিল, তার নাম ছিল অনাথ সে-ও মরে গেছে শৈশবে, পঞ্চাশ বছর আগে, কিন্ত আজও লোকে তাকে অনাথের ম! বলে ডাকে

অনাথের মা কিছুদিন আমাদের বাড়ীতেও কাজ করেছিল, কিন্ত কাজের ঠেলায় পালাতে পথ পায়নি সে সময়ে অনাথের অনেক গল্প সে আমাদের কাছে বল্ত। কেমন স্ন্দর দেখতে ছিল সে, সে তাঁকে ম! বলে ডাকৃত-_সেই ডাক এখনে তার কানে লেগে রয়েছে। এক দিন রাতে তার জর হয়েছিল-_রাত দুপুরে অনাথ তার গায়ে হাত দিয়ে বলেছিলস্*মা, তোর জর হয়েছে।

অনাথ সম্বন্ধে এই গল্পটি অনেকবার সে আমাদের কাছে করেছে আর প্রতিবারেই তার চক্ষু সজল হয়েছে, গলা ধরে গিয়েছে। পঞ্চাশ বছর আগে মরে-যাওয়া অচেনা অনাথের ছুঃখে আমাদেরও কণ্ঠরোধ হয়েছে, আমাদের গল্পের আসর ভেঙে গিয়েছে।

অনাথের মা চলে গেল। বসে আছি লজঞুসওয়ালার আঁশায়। ছু-পয়সা শোধ দিয়ে আবার ছু-পয়সার লজঞুস খাব-এ যায় রিপুকর্ণওয়ালা-- রোর্গা, একেবারে হাড়িগোড় বার বরা» জয়ে গড়া।

রঃ

স্থুরে গেঁডিয়ে-গেঁিয়ে চলে যায় রি-পু-কম-মও, দূর থেকে গুনতে লাগে যেন--কি-কু-ম্-মও। |

দুরে গলির মোড়ে লঙঞ্চুওয়ালার পরিচিত কণ্ঠস্বর শোন! গেল -ল্যাওনচুদ্-্যাঞস_ :

তড়াক্‌ ক'রে বেরিয়ে গিয়ে রকে দাড়ান গেল। লজঞুমওয়াল! কাছে আসতেই ইসারীয় তাকে ডেকে আমর! ভেতরে ঢুকে গেলুম | আমাদের দ্বিপ্রাহরিক গৃহবিধিন সঙ্গে তার পরিচয় ছিল সেবাঁড়ীর সামনে এসে হাক-ডাক থামিয়ে কিছুক্ষণ এদিক্‌-ওদিক্‌ দেখে টপ. করে বাড়ীর মধ্যে ঢুকে সন্তর্পণে দরজা ভেজিয়ে পা টিপে-টিপে ঘরের মধ্যে এসে ঢুকত, আমর! দরজাট1 বন্ধ ক'রে দিতুম। এত সাবধানতার কারণ এই যে, কোনে! রকম শব্দ হোলে ওপরওয়ালাদের খুম ভেঙে বাবে--বার কলে আমাদের নানান অন্থবিধা, এমন কি বিপদ-আপদ ঘটবার সম্ভাবনাও ছিল। ঘরের মধ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে দেনা-পাওনার কথা৷ হোতো, তার পরে লজঞ্চুন থেতে-খেতে গল্প চল্ত। বলা বাহুল্য, এক ভাগ লগঞ্চস তারও প্রাপ্য ছিল। সব দিনই তাকে ভেতরে আনবার সুবিধা হোতো! না, মধ্যে-মধ্যে রাস্তা থেকেই তাকে বিদেয় দিতে হোঁতো।।

এই লজঞুওয়াল। ছিল আমাদের বন্ধু। আমাদের মধ্যে আধিক সামাজিক বাবধান ছিল বটে, কিন্ত এই মিলনের দৌত্য করেছিল আমাদের কৈশোর আর তার দিকে ছিল প্রাণৈষ্থ্য।

সে ছিল মুসলমান। বিহারের কোন এক জেলায় তাদের বাড়ী ছিল, কিন্ত দেশের সঙ্গে কোনো! সহন্ধই নেই__অনেক দিন থেকে তারা ব্যারাকপুরে বাস করছে। তার আপনার জন বলতে কেউ নেই। তার বড় বোনের ত্বামী ব্যারাকপুরের কাছে কোঁন এক কলে কুলীগিরি করে, নেই হুত্রেই ওখানে বাস! বড় বোনও বেঁচে নেই, ভগিনীপতি আবার বিয়ে করেছে, বৌয়ের ছেলেপুলেও হয্েছে। প্রীখানেই গে থাকে,

কারণ, তাদের ওপরে মায়া পড়ে গিয়েছে, ছাড়তে পারে না। বছরের মধ্যে কয়েক মাস সে-ও কলে কাজ করে। বাঁকী কয়েক মাস লস বিক্রি করে কলকাতায় রোজ বেল] নটা-দশটার সময়ে ট্রে চড়ে আসে এখানে, আর রাতের ট্রেণে ফিরে যায়। রামবাগানে কোথায় দিশি লজঞ্ুসের কারখানা কাছে, সেখান থেকে পাইকারী দরে মাল খরিদ করে।

তার নাম ছিল মুখিয়।। মুখিয়া মানে সর্দার। কিন্ত কোনে! দেশের মনুষ্য জাতি অথব সম্প্রদায়ের সর্দার হবার মতন গুণ বা চেহারা তার ছিল না। অবিশ্যি জন্ত তাকে খুব দোঁষ দেওয়া যাঁয় না! মানুষের নাম অতি অল্প ক্ষেত্রেই গুণবাচক হ/য়ে থাকে দেখা যাঁয় বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে নামের গুণাবলীর সঙ্গে মানুষের অহি-নকুল সম্পর্ক দীড়াতে থাকে। নামকরণ সংস্কারটি মাষের মৃত্যুর পরই হওয়া উচিত।

আমরা তখন বালক হ'লেও মুখিয়ার চাইতে মাঁথ।য় উচু ছিলুম। বামনের মতন মুখখান! অন্বাভাঁবিক রকমের বড় হ'লেও তাকে ঠিক বামন বল! চলত না। তার রং ছিল কালে! কিন্তু বাপ রে, সে কি কালো ! ডান দিকের মাথার মাঝখান থেকে আরম্ভ ক'রে একেবারে চিবুক অবধি পোড়া এতথানি জায়গ। একেবারে মস্থণ চকচকে এবং তার মাঝে মাঝে সাদ দাগ, ধবলের মতন--অমাবস্যার অন্ধকার আকাশে যেন তারা ঝক্‌ ঝক্‌ করছে। পুড়ে যাওয়ার ফলে ভান চোখের কোণট! যেন টেনে ধর! হয়েছে গোছের, আর চোখের তলার দিকের লাল্ট! বেরিয়ে এনেছে --যেন দগদগে ঘা। ডান দিকে মাথায় চুল, ভূরু, গৌঁফ কিংবা দাড়ি এক গাছিও নেই। ৰা! দিকের মাথায় চুল এবং ভুরু আছে বটে, কিন্তু দাঁড়ি এখানে দুটি ওখানে চারটি-_-গোৌঁফও সেই রকম। এক দিকৃকার দ্বাড়ি-গৌঁফ চেঁচে ফেলে তাকে ভন্ত্র হ'তে বললেই সে তার সেই কয়েক গাছা দাঁড়িতে হাত বুলোতে-বুলোতে বলত --ওরে বাবা, তা হয় না-_আমি

নেমাজী লোক, দাড়ি ফেলতে পারি কখনে!? বয়স ছিল তাঁর ত্রিশের ওপর। একবার কল্পনা করুন সেই চেহারাখান৷ !

কিন্তু সেই কুৎসিতের মধ্যে বাঁস করত একটি সুন্দর প্রাণ

সুখিয়া মাঁসে প্রায় পনেরে।-ষোলো টাকা রোজগার করত, কিন্তু তা থেকে নিজের সম্ভোঁগের জন্ত একটি পয়সাও খরচ করত নাঃ সব ভগিনী- পতির হাতে তুলে দিত। সে বলত--ছোট-ছোঁট ছেলে-মেয়েগুলোকে বড় ভালবাসি, তাই তাদের ছেড়ে অন্ত কোথাও যেতে পারি না। নইলে এত বড় ছুনিয়াঁয় কি থাকবার জায়গার অভাব আছে?

অথচ তারা তাঁর নিজের বোনের ছেলেপিলে নয় তার ভগিনীপতির দ্বিতীয়া স্ত্রীও তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করত না। সে মুখিয়াকে “পোড়ারমুখো” বলে ভাকৃত।

আমরা বলতুম-_তুই কিছু বলতে পারিস্‌ না?

মুখিয়া বলত--কি আর বলব! সত্যিই তো আমার মুখ পোড়া

এই সবের জন্ত তাঁকে আমাদের বড় ভাল লাগত পরে সেই আকর্ষণ বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছিল

তার সঙ্গে কেমন ক'রে বিচ্ছেদ হোলে! সেই কাহিনীটাই বলি।

আমাদের সেই দ্বিপ্রাহরিক আড্ডাঁটা সেবার গরমের ছুটির সময় খুবই জমে উঠেছিল। মুখিয় ছাঁড়াও লঞ্চের লোভে-লোভে পাড়ার আরও ছুটি-তিনটি ছেলে এদে রোজ জমতে লাগল সেখানে বাড়ীর কেউ জানে না, খুবই সন্তর্পণে আড্ডাধারীরা যাঁওয়া,আঁসা করে। আমরা ছুই ভাই বাড়ীর মধ্যে উচ্চহাঁসির জন্য কুখ্যাতি ছিলুম, কিন্তু আড্ডা ধরা পড়বার ভয়ে সে সময়টা আমরা প্রাণপণে হানি সামলে রাখতুম। একটি ছেলে ছিল, সে" ভারি মজার-মজার সব গল্প কাহিনী বলতে পারত। সেই বয়সেই গল্প বলবার বেশ একটা চাল সে 'আয়ত করেছিল।

ফাঝে"মাঝে তার গল্প গুনে হাঁসি সামলাতে না পেরে আমর মুখে কাঁপড় ঠেসে ছুটে রান্তাঁয় বেরিয়ে গিয়ে প্রাণ খুলে হেসে আঁসতুম | কিন আশ্চর্যের বিষয় যে, সে নিজে একটুও হাসত না বরং আমাদের মুখের দিকে এমন জিজ্ঞান্্ু ভাবে চাইত যে মনে হোতো৷ সে বলতে চায়--কি রে হাঁস্চিস কেন--এতে হাসবার কি আছে রে?

মুখিয়! ভাঙা-ভাঙ| বাংল! জানত বটে, কিন্ত সব কথার সুক্ম ব্যঞ্জন! সে সব সময়ে ধরতে পারত না__আমাদের হাসতে দেখে সে হাঁসযার চেষ্টা করত মাত্র। |

সেদিন সেই ছেলেটি একট মজার গল্প বেশ জমিয়ে বলছিল, এমন সময় গল্পের মাঝখানেই হঠাৎ মুখিয়৷ তারস্বরে চীৎকার ক'রে উঠল-_ ঠিক বাচ্চ! গাধার মতন।

হঠাৎ তার সেই চীৎকার শুনে আমর! তো ভড়কেই গেলুম কিন্তু একটু পরেই টের পাওয়া! গেল যে সেটা তার হাসি।

হাসি আর থামে না। আমর! ধত বলি, এই মুখিয়া, চুপ কর-_-চুপ কর ভাই, মা উঠে পড়বেন-__

আর চুপ কর! একট] দম-দেওয়া কলের মতন মুখিয়া সেই ভাবে গাধার ডাক ছেড়ে চল্ল। হাঁসির সময় তার মুখের চেহার! হয়ে উঠল একেবারে বীভৎস। তার মুখের সেই পোড়। দিকটা কি- রকম কুঁকড়ে গিয়ে বেরিয়ে-পড়া চোঁথট1 যেন আরও ঠেলে বেরিয়ে আসতে লাগল।

কিছুতেই তাকে থামাতে পারি না। ওদিকে মার ঘরের দরজা খুল্ল, তাকে তাড়াতে চেষ্টা করতে লাগলুম কিন্ত কে কার কথ! শোনে ! হাসির ধমকে সে-সব কথ! সে বুঝতেই পারলে না ইতিমধ্যে মা এসে আমাদের দরজ! খুলে দাঁড়াতেই মুখিয়ার হাসি গেল থেমে হাঁসি থামল বটে কিন্ত তার মুখখানার অবস্থা সেই রকমই বেঁকে-চুরে তুব্‌ড়ে রইল।

তি

মা বোধ হয় প্রথমে মুখিয়াকে দেখতে পাঁননি। ঘরে ঢুকে সেদিকে চোখ পড়তেই তাঁকে দেখে চম্কে--এটা কে রে! বলে এক পা পিছিয়ে গেলেন

মুখিয়া ততক্ষণে তার লজঞুসের ডালাটা সামলে নিয়ে মাকে ছোট্ট একট সেলাম ক”রে সরে পড়ল-_তার পেছনে-পেছনে পাড়ার অন্ত ছুটি ছেলেও সরে পড়ল হাঙ্গামার হাত থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্ত আমরাও তখনকাব মতন চিলের-ছাতে উঠে আত্মগোপন করলুম

বাবা আপিস থেকে ফেরবার পর বিকেলে একট! খোলা বারান্দায় মাহুর পেতে রোজই আমাদের এক পারিবারিক বৈঠক বস্ত। বাড়ীতে কয়েকজন মহিলা! থাকতেন, তারা আমাদের স'সারেরই লোক হঃয়ে গিয়েছিলেন। তাদের মুখের ওপরে চোপরা, অথব৷ গ্রকাশ্ঠে তাদের সম্বন্ধে কোনে রকম অসম্মানকর মন্তব্য করলে আমাদের কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হোঁতো৷। প্রাত্যহিক এই পারিবারিক সভায় তারাও উপস্থিত থাকতেন। এইখানে প্রতিদিনই--বাবা! আপিসে চলে যাবার পর এতক্ষণ পর্যস্ত-_-অর্থাৎ যতক্ষণ আমরা তার চোখের আড়ালে ছিলুম --আমরা কি করেছি, অর্থাৎ কেমন ভাবে দিন কাটিয়েছি, তার একটা ফিরিস্তি পেশ করতে হোতো!। বল! বাহুল্য, রোজই বলতুম, এগারোট! থেকে চারটে অবধি লেখাপড়া করেছি-_প্রমাণ-স্বরূপ, হাতের লেখা, অঙ্ক কষা প্রভৃতি তিনি রোজই নিয়ম মত দেখে তাতে সই করে দিতেন।

সেদিন আসরে ডাকের ধরণ দেখেই বুঝতে পাঁরলুমঃ আজ বরাতে কিছু দক্ষিণা আছে।

আসরে উপস্থিত হতেই বাবা গন্ভীরপ্ম্রে বললেন--বোসো।

একটু নিরাপদ ব্যবধানেই গুটি-সুটি হয়ে বসে পড়া গেল।

সঙ্গে-সূঙ্গে সেই সনাতন প্রশ্ন--আজ ছুপুরে কি কি করলে?

ঘর]

যদিও জানতৃম যে, আজ ছুপুরের কাহিনী বেশ পল্পবিত হয়েই তার কানে পৌছেচে তবুও বুক ঠুকে সেই সনাতন উত্তরই দিয়ে বললুম-_ এগারোটা থেকে পৌনে বারট! অবধি অস্ক কষেছি, পৌনে বারোটা! থেকে পৌনে একটা অবধি ভূগোল পড়েছি, পৌনে একটা থেকে একট! অবধি ম্যাপ দেখেছি--

আর বেলী অগ্রসর হবার আগেই একটি মহিল! বলে উঠলেন দ্যা দেখেছ না ছাই দেখেছ !

তারপরে বাবার দিকে চেয়ে তিনি বলতে পরাতে থালি হুল্লোড়, হাসি, আড্ডা, গল্প এই তো চলে দেখছি, পড়ে কখন তা৷ তো জানি না।

সঙ্গে সঙ্গে আর এক জন স্থরু করলেন-_ছুপুর বেল ওদের অত্যাচারে চোখের পাতাটি বোঁজবার যো আছে! হৈ হৈ চলেইছে !

আর এক জন মন্তব্য করলেন-_-এই বয়সে এত বন্ধুই বা এদের জোটে কি ক'রে তাই ভাবি। রাজ্যের লোকের সঙ্গে গলাগলি!

এবারে মা! বললেন--আঁর সে সব বন্ধুর চেহারাই বা কি!

বাবা বললেন--সার! দিন হি হি হিহিআর হে! হো হো হো ক'রে ক'রে নিজেদের যে রকম চেহারা হয়েছে, বন্ধু-বান্ধবও তো জুটবে সেই মেকৃদারের-_

য| হোক, সেদিনকার সভাঁয় ঠিক হয়ে গেল হে দুপুর বেল! আমাদের সায়েম্তা রাখবার এক জন জবরদস্ত শিক্ষক রাখা হবে, আর সকাল-সদ্ধ্যের জন্ বাবা তো আছেনই। তার সন্ধানে এমন লোক আছে একথা! তিনি সভাক্ষেত্রে প্রকাশ করলেন। ,

পরের দিন দুপুর বেলায় আড্ডায় ছুঃসংবাদটি প্রকাশ কর! গেল।

মুখিয়াকে বললুম--বাঁড়ীর সামনে পাড়িয়ে ছু-বার 'ল্যাবেঞ্ুস্ত বলে হাঁক দিলেই আমরা বেরিয়ে আসব।

চু

দিন ছুই বাঁদে আমরা! ছুপুরের মাষ্টার মশাইকে দেখলুম আফিস থেকে ফেরবাঁর সময় বাব! তাঁকে সঙ্গে নিয়ে এলেন) বেশ চেহারা দিব্যি ভদ্র অমায়িক ভাব। আমাদের ছুই ভাইয়ের গাল টিপে-টিপে আদর ক'রে বললেন--এরা তো! বেশ ছেলে! আপনি যে রকম বললেন দেখে তো ত1 মনে হয় না।

বাবা একটু হেসে ধললেন--এক একটি বর্ণচোরা। ছু-দিনেই পরিচয় পাঁবেন।

ঠিক হয়ে গেল কাল ছুপুর থেকেই তিনি আমাদের গুরুভার গ্রহণ করবেন।

সেদিন রাঁত্রিবেল! আমাদের পড়াঁতে-পড়াতে বাবা বললেন- আমি মাষ্টার মশাইকে বলে দিয়েছি, তোমাদের মেরে ফেললেওআমি তাকে কিছু বলব না, অতএব সাবধান হয়ে চোলে!।

প্রাণধারণের উপকরণগুলির দুমূল্যতার সঙ্গে-সঙ্গে প্রাণ জিনিষটি আজকাল যে রকম সুলভ হয়ে উঠেছে সে যুগে তা ছিলনা, কাজেই অত্মরক্ষার তাগাদায় সাবধান হবারই সংকল্প করতে লাগলুম মনে-মনে।

ছুটির সময় দুপুর বেলা এই রকম সাজার ব্যবস্থা হওয়ায় আমর! বাঁড়ীশুদ্ধ সবার ওপরে হাঁড়ে চটে গেলুম ; আমরা যে রকম জন্তর্পণে কথা বলতুম, চলতুম এবং যে রকম সাবধানতার সঙ্গে দরজা খোলা বন্ধকরা হোত! তাতে কাক্চরই কখনে! ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া উচিত নয়। অবশ্ঠি এক দিন যুখিয়া তাঁর অদ্ভুত হাসি হেসে সবাইকে চম্কে দিয়েছিল স্বীকার করি। অদ্ভুত রসে চমক লেগেই থাকে-_সেটা তার! সহজেই উপেক্ষা! করতে পারতেন। কিন্তু তা না ক'রে বাড়ীশুদ্ধ সকলেই একবাক্যে রায় দিলেন যে, দুপুর বেল আমাদের অত্যাচারে কোনো দিনই তারা ঘুমুতে পারেন না!

কিরে তাদের সেই আরামের দ্বিপ্রাহরিক সুখন্বপ্রটির ব্যাধাত জগ্মাতে পারা যায়, তারই পরামর্শ আটতে লাগলুম ছুই ভাইয়ে।

পরের দিন ছুপুর বেল! এগারোটা বাঁজতে না বাঁজতে মাষ্টার মশায় এসে হাজির হলেন। এগারোটা থেকে চারটে অবধি কবে কখন কি পড়া! বা লেখা হবে প্রথমেই তার একটা রুটিন তৈরী হোলো, তার পরে আসল পড়! স্থুরু হোলো।

পড়তে লাগলুম মনে মনে। কিছুক্ষণ ধ্যানস্থ থেকে মাষ্টার মশায় বললেন-_-চেঁচিয়ে পড়, তা না হোলে আমি বুঝন কি ক'রে যে তোমর! পড়ছ না ফাঁকি দিচ্ছ েঁচিয়ে পড়ার আর একটা মস্ত সুবিধা এই যে» বা পড়বে সঙ্গে-সঙ্গে মুখস্থ হয়ে যাবে।

ব্যস! আর বলতে হোলে না, সঙ্গে-সঙ্গে হদিশ লেগে গেল। সেই থেকে সুরু ক'রে বেলা চারটে অবধি আমরা এমন চেঁচিয়ে পড়লুম যে বাড়ীস্তদ্ধ লোকের ঘুম তো দুরের কথা, ডাকাত পড়েছে মনে ক'রে কুকুর” গুলো পর্যস্ত ঘেউ.ঘেউ ক'রে ওপর-নীচ করতে আরম্ভ ক'রে দিলে।

যথাসময় মাষ্টার মশায় চলে গেলেন। তাঁর মুখ দেখে বেশ বুঝতে পারা গেল যে, আমাদের পড়া মুখস্থ করার আগ্রহটা তিনি ভালে! ভাবে গ্রহণ করেন-নি।

বাড়ীর মধ্যে ঢুকে দেখলুম, সবারই মুখ বেশ গভভীর-_বুঝলুম ওষুধ লেগেছে।

দিন কতক এই রকম চলল-_কিস্তু কাহাতক রোজ পাচ ঘণ্ট। ক'রে: চেঁচানো বায়, চেঁচিয়ে-েঁচিয়ে পেটে কৌঁকে ব্যথ! ধরে গেল। তার ওপরে, দিনে ঘুমোনে! যাদের অভ্যেস, তাঁরা ইঞ্জিন তৈরির কারখানায় পড়েও দ্দিব্যি ঘুম লাগাতে পারে, দু-এক দিন একটু কষ্ট হয় মাত্র

বাড়ীতে দিন কয়েক মিস্ত্রি থেটেছিল | উদ্বৃত্ত বিলিতী-মাটি, বালি, চুণ ইত্যাদি বাড়ীর এক জায়গায় বন্ধ ক'রে রেখে দেওয়া হয়েছিল?

ভবিষ্যতের জন্ত এর কাছেই মিশ্ত্রিদের ছোট-বড় কণিক ইত্যার্দি সব জড় করা ছিল। মিস্ত্রিদের কাজ সরঞ্জাম দেখতে-দেখতে আমাদের স্থপতি-গ্রতিভা মাথা-চাড়া দিলেন--ঠিক কর! গেল, একটি ছোট বাড়ী তৈরি করতে হবে।

কদিন ধরে ছোট-বড় দেশলাইয়ের মধ্যে এঁটেল মাটি পুরে সেগুলোকে রোদে শুকিয়ে একরাশ ইট টালি তৈরি কর! হোলে! এক দিন রাত্রে আমাদের শোবার ঘরের এক কোণে মেজে খুঁড়ে বাঁড়ীর ভিত্তি স্থাপন করা গেল। সকাল বেল! বাড়ীর চারিদিকে লোক-জন চলাফের! ইত্যাদি নান! ব্যাঘাতে কাজ তেমন অগ্রসর হোলো ন|। ঠিক হোলো, দুপুর বেলা পড়বার সময় এক-একবার এক এক জন ক'রে উঠে এসে কাজ করা যাঁবে।

যথা সময়ে মাষ্টার মশায় এলেন। ওপরওয়ালীর! সব শয়নমন্দিরে প্রবেশ করবার পর আমি উঠে গিয়ে আধ-ঘপ্টাটাক কাজ ক'রে ফিরে এলুম। ভায়া উঠে গেল তার পর, দে ফিরল প্রায় ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে এই রকম ক'রে ছুজনে বার ছু-ঘ্ভিন গিয়ে কাজ করা গেল। মনে হোলো! এই রেটে কাজ চালাতে পারলে পরের দিনেই একতলার কাঁজট। শেষ হয়ে যেতে পারে।

কিন্ত হায় রে পরের দিন! সেদ্দিনটায় তিখি-নক্ষত্রের যে কি সমাবেশ ছিল তা আজও ভাবি।

সেদিন মাষ্টার মশায় এসে বসতে না বসতে আমি উঠে গেলুম, কারণ সিমেণ্টট! মাথা হয়েছিল, দেরী হোলে আবার পুকিয়ে যাবে। প্রায় ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে একথাঁনা বই হাতে নিয়ে ফিরে এলুম-_ অর্থাৎ মাষ্টার মশায় যেন মনে করেন বই খুঁজতে দেরী হয়েছে আমি কিছুক্ষণ বসতে না বসতে ভায়া উঠে গেল প্রায় ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে এসে গুটি- গুটি নির্জের জায়গাঁয় বসতে যাচ্ছে, এমন সময় মাষ্টার মশায় চেঁচিয়ে উঠলেন, ইংরেজীতে--০৪ 0০03, 902289 159:.

১১

ব্যাপারটা এতই অপ্রত্যাশিত যে আমরা ভড়কে গেলুম। মাষ্টার মশায় আমাকেও ডাক ছাড়লেন ইংরেজীতে, সুরেই।

আমরা ছু-জনে তীর কাছে গিয়ে পাশাপাশি দাড়ালুম। তিনি বললেন --কাঁল থেকে দেখছি পড়তে-পড়তে উঠে যাচ্ছ--কোৌঁথায় যাঁও-_-এ'--

এই বলে, আমাদের উত্তরের জন্ত আর অপেক্ষা না! ক'রেই দু-জনের মাথায় টশই-টশই ক'রে কয়েকটি শ্রী! জমিয়ে দিলেন

উঃ, মাথা একেবারে চিড়বিড়িয়ে গেল। যে কখনো মারে না তার হাতের আঘাতে লাগে বেশী, কারণ দেহ দেহাতীত ছু-জাঁয়গাঁতে লাগে সে আঘাত। |

যা হোক, মাথায় হাত বুলোতে-বুলোতে তো! নিজের জায়গায় এসে বসলুম। মাষ্টাব মশায়ের রাগ তখনো! পড়েনি। তিনি গর্জে-গর্জে বলতে লাগলেন--চারটের আগে এখান থেকে এক-প! নড়েছ কি দেখবে মজ! !

ভারতবর্ষের মানচিত্রধান! সামনে খোলা পড়েছিল মাথার যন্ত্রণায় মনে হ'তে লাল সমস্ত ভারতবর্ষের বুক জুড়ে সর্ষের ক্ষেত ভরে উঠেছে।

মাষ্টার মশায় আবার গর্জে উঠলেন-_-তোমাদের বাবা যে তোমাদের “বর্ণচোরা+ নাম দিয়েছেন ত| ঠিকই দিয়েছেন। বিচক্ষণ ব্যক্তি তিনি।

নামকরণ করার ব্যাপারে বাবার প্রতিভা সম্বন্ধে আমাদেরও কোনে! সন্দেহ ছিল নাঃ কারণ আমাদের নামের জোড়। সেদিন জগতে দুর্লভ ছিল, আজও সুলভ নয় | তাই সেদিক্‌ দিয়ে না গিয়ে ভাবতে লাগলুম, পৃথিবীর অনেক লোকই বর্ণচোরা--যেমন আপনি একটি

নান! রকম আবোল-তাবোল চিন্তা পাঁক খাচ্ছে মগজের মধ্যে, এমন সময় গলির মোড়ে আওয়জে হোলো-_ল্যা-_বেন - চুওওস্‌__

মুখিয়ার কাছে এক পয়স| ছু-পয়সা ক'রে সেবার প্রায় চার আনা ধার হ'য়ে গিয়েছিল। ক'দিন থেকে পয়সার জন্ত তাগাদা! করায় সেদিন তাকে নিশ্চয় দিয়ে দেবার কথ! ছিল--পয়সার জোগাড়ও হ'য়ে গিয়েছিল,

কিন্ত কি করে উঠেগিয়ে তাকে পয়সা দেওয়া যায়! ওদিকে মুখিয়া ইাকতে-হাীকতে বাড়ীর সামনে এসে সাঙ্কেতিক ডাক ছাড়লে --ল্যাওনচোস্‌!

আমাদের ভাবাস্তর দেখে মাষ্টার মশায়ের সজাগ দৃষ্টি তীক্ষতর হ'য়ে উঠল। ওদিকে মুখিয়৷ আরও দু-তিনবার অতি বিনীতভাবে ল্যাবেন- চোস্‌--ল্যাওনচোস্‌ বলে হঠ।« বীরদর্পে চৌওওম্‌ বলে এমন একটা হাঁক ছাড়লে যে, দেশকালপাত্র ভূলে আমর! ছু-জনেই হেসে ফেব্রুম।

আমাদের হাসতে দেখে মাষ্টার মশায় রেগে উঠে এসে জ্িজাসা করলেন--হাস্ছ কেন?

ঠিক সেই মুখে ছু'চোবাজীর চালে মুখিয়া আর এক হাক ছাঁড়লে-_ চৌোই গুই গুই গুই ওস্‌।

ব্যস্ঃ আর যায় কোথায়! হাঁসি চাঁপা আর সম্ভব হোলে! না, এবার আমরা জোরে হেসে উঠলুম।

আমাদের ধৃষ্টতা দেখে মাষ্টার মশায় বললেন-_-আচ্ছা, তোমাদের কাদিয়ে ছাড়ছি।

বলার সঙ্গে-সঙ্গে ছুজনের ওপর এলোধাপাড়ি কীল, চড়, গাট্টা পড়তে লাগল। আমাদেরও কি রকম রোথ চেপে গেল-_মাষ্টার মশায় তই মারুন না কেন কিছুতেই হাঁসি থামাঁব ন!।

ওদিকে সেদিন যেন মুধিয়ার প্রতিভ। খুলে গেল। সে অদ্ভুত রকমারী বাঁট-কর্তবে ল্যাবেঞুস্‌' শব্ষটি হীকতে গুরু ক'রে দিলে মোট কথা, লজঞুস্‌ চুষে-চুষে উপভোগ করার বাণীমুদ্তি সে ফুটিয়ে তুলতে লাগল সেই তৃতীয় প্রহরের রোদে পথে দাড়িয়ে।

এদিকে মাষ্টার মশায় ছুই হাতে বাজন! বাজাচ্ছেন আমাদের ওপর-_ চটাচট, পটাপট | মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে একই সঙ্গীত--কাদিয়ে তবে ছাড়ব। আর আমর! কাদতে-কাদতে উচ্চৈম্বরে হেসে চলেছি হা হা,হো হো, হিহি-_

১৩

এই অভূতপূর্ব কনসার্টের শবে বাড়ীর সবার নিবানিদ্রা ছুটে গেল, তীর! ছুদ্ধাড় ক'রে এক রকম ছুটেই নীচে নেমে আসতে লাগলেন। কিন্তু তখন ছু-পক্ষই অর্ধক্ষিপ্ত। তাদের দেখে মাষ্টার মশায়ও হাত থামালেন না, আমরাও আগের মতনই হানতে থাকলুম।

ইতিমধ্যে মা এসে ঘরে ঢুকলেন-_-উভয় পক্ষেরই ইজ্জৎ বাঁচল

মাকে দেখে মাষ্টার মশায় আমরা থেমে গেলুম। মা আমাদের বলতে লাগলেন--তোমর! বড় বাড় বেড়েছ! আচ্ছা হচ্ছে তোমাদের-.

মা যেন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন এমন সময় বাইরে একটা গোলমাল গুনতে পাওয়। গেল! অনেক লোকের উত্তেজিত কঠম্বর মধ্যে-মধ্যে মুখিয়ার কান্নার আওয়াজ পাঁওয়া যেতে লাগল। অন্ত সময় হোলে আমার! ছুটে বেরিয়ে যেতুম, কিন্তু মাথার ওপরে অত-বড় একটা অপরাধের বোঝা থাকায় তখনকার মতন উথান-শক্তি রহিত হয়ে গিয়েছিল।

গোলমাল উত্তরোত্তর বেড়েই চলল | হঠাৎ যেন তারই মধ্যে বাবার কগ্ম্বর শুনতে পেলুম কি রকম হোলো! তাই ভাবছি, এমন সময় মনে পড়ল আজ যে শনিবার।

আবার বাবার আওয়াজ পাওয়া গেল। ম| আমাদের বললেন--দেখ তো, কি হয়েছে?

বলা-মাত্র তড়াক ক'রে বেরিয়ে গেলুম। বাইরে গিয়ে দেখি, সে এক বিরাট ব্যাপার! রাজ্যের লোক দাড়িয়েছে মুখিয়াকে ঘিরে! তার লজঞুদ রাস্তাময় ছড়িয়ে পড়েছে, কাঠের কাণা-উচু ডাঁলাটাও এক দিকে পড়ে রয়েছে মুখিয়ার হাত-পা মুখের স্থানে-স্থানে ছ'ড়ে গিয়েছে--ছু-চোখ দিয়ে জল ঝরছে, কিন্তু কারার শব হচ্ছে না।

করণ সে দৃশ্ঠ দেখে আমাঁদের চোখে জল বেরিয়ে এল সেখানকার তক্কাতক্কি-গুনে ব্যাপারটি ধা বুধলুম তা হচ্ছে প্রই--.

238 ১৪ চ০এ 2৮

পাড়ার গুটিকয়েক লোক ছিলেন বেকার। মুখিয়া নাকি প্রতিদিন বীভৎস হুঙ্কার ছেড়ে তাদের ধিবানিত্রার ব্যাঘাত জম্মায়। এত দিন তাঁরা নীরবে তার এই অত্যাচার সহ্য ক'রে আসছিলেন,কিস্ত আজ নাকি খুব বাড়াবাড়ি করায় নিতান্ত সহ্য করতে না পেরে অসময়ে স্বপ্লাগার ছেড়ে এই রোদে তার! বেরিয়ে পড়েছেন তাকে কিঞ্চিৎ শিক্ষা দিতে। অধ্যাপনাঁর কার্ধ্যটি প্রায় স্ুসম্পূর্ণ হয়ে এসেছিল, এমন সময় বাব এসে তাদের হাত থেকে মুখিয়াকে উদ্ধার করেছেনস্*এই সময় আমর গিয়ে উপস্থিত হয়েছি |

বাবা বলতে লাগলেন-__ছি ছি, আপনার! কি মানুষ! এই গঙ্গুকে ধরে তিন-চার জনে মিলে মারতে একটু মায়া হোলো না৷ আপনাদের ?

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি বললে-_-মশায়, আপনি যা রাগী, আপনি হোলে মেরেই ফেলতেন ওকে

বাবা চুপ ক'রে আছেন দেখে আর এক ব্যক্তি বললে--আপনিও তো মশায় আচ্ছা! লোক ! পাড়ার লোকে একটা কাজ না হয় ক'রেই ফেলেছে আপনি কোথায় সেটা চেপে যাবেন, না উল্টে ওর হয়ে লড়াই শুরু করেছেন! আশ্চর্য !

তিনি কোঁনে। জবাব দেবাঁর আগেই আর এক জন বলে উঠ.লে-_ ছেলেদের বন্ধু যে!

ভীড়ের লোকের! হো-হো! ক'রে হেসে উঠল।

বাবা আর তাদের কথার কোনো উত্তর দেবার চেষ্টা না ক'রে ছেলেদের বন্ধুর র্ূপথানি দেখতে লাগলেন। রূপ-তরাস কেটে গেলে যুখিয়ার এক- খাঁন! হাত ধরে তাকে বাড়ীর মধ্যে নিয়ে এসে দরজাটা বন্ধ ক'রে দিলেন।

মুখিয়ার অবস্থা দেখে বাড়ীর সবাই ছুংখ করতে বাগলেন। মা! তাকে জেরা করলেন--তুই এ-বাড়ীর সামনে দাড়িয়ে অমন ক'রে চেঁচাচ্ছিলি কেন? |

১৫

তারপর আমাদের ছ'জনকে দেখিয়ে বললেন--নিশ্চনন এদের ডাকছিলি! বল, তোর কোনে! ভয় নেই।

মুখিয়৷ বললে-_-চলতে চলতে -ক্লান্ত হয়ে পড়লে এক জায়গায় গড়িয়ে কিছুক্ষণ চেঁচানোই আমার অভ্যেস--ওদের ডাকবার আমার কি দরকার!

মা ঝললেন--আঁমি জানি, এরা তোর কাছে ধার ক'রে থায়_-এদের কাছে কিছু কি পাবি?

সঙ্গে-সঙ্গে মুখিয়! প্রবলভাবে ঘাড় নেড়ে বললে-_ন! ন! না, কিছু পাব না--ওর। আর ধারে খায় না।

এক গ্লাস জল চেয়ে নিয়ে + থেয়ে মুখিয়া তাঁর শূন্য ডালাট! বগলে নিয়ে চলে গেল।

মুখিয়! চলে যাবার পর এই ব্যাপার নিয়ে বাড়ীর সকলেই আলোচন! করতে লাগলেন। বাব! মাষ্টার মশাই দু-জনেই এই নিয়ে অনেক কথা বললেন।

বাবা বললেন-কেউ কারুকে ধরে মারছে, দৃশ্ত আনি সহ করতে পারি না। বিশেষ ক'রে সে ব্যক্তি যখন উপ্টে মারতে পারবে না।

মাষ্টার মশায়ও দেখলুম বিষয়ে বাবার সঙ্গে একেবারে একমত

সেদ্দিন দিবানিদ্র।য় ব্যাঘাতের জন্ত বারা মুখিয়ার অঙ্গে ব্যথ! দিয়েছিলেন, তার! সকলেই দিবানিত্র। থেকে গভীরতর নিজ্রায় অপহৃত হয়েছেন- জানি না, আজও নিদ্রা ভেঙেছে কি ন|।

মাষ্টীর মশায় কিন্ত পরদিন থেকে আর এলেন না। সেজন্ত ছুঃখ নেই, কারণ মাষ্টারের অভাব জীবনে কোনে৷ দিনই :ভোগ করতে হয়নি, কিন্তু মুখিয়া আর এল ন!, যার অভাবে মনের একট! জায়গা! আজও খালি হয়ে আছে।

১৬

রাস্তা-ধারের জানালায় বসে আছি--পথ ক্রমেই জনবিরল হয়ে উঠছে। বেরিয়েছে ছুপুর বেলাকার যত ফেরিওয়ালার দল। সে সদয় অধিকাংশ বাঁড়ীরই বাবুদের দূল বাড়ীতে থাকে না-_মেয়েদের কাছে জিনিষ বিক্রি করা সহজ

যাঁয় চুড়িওয়ালা-_বেলোয়ারি চুড়ি চাইয়া--বাঁল! চীইয়!__ খেলোনা চাইয়__

তখনকার দিনে সব বাড়ীরই রাস্তার দিকের বারান্দায় নীল কাপড়ে মোড়া চিক ঝুলত। রাস্তায় চলা, ট্রামে-বাসে চড়া, কিংবা বাজার করবার ছলে সকাল থেকে দোকানে-দোকাঁনে ঘুরে-ঘুরে সঙ্গের পুরুষ জীবগুলিকে নিম-খুন ক'রে সন্ধ্যার সময় বাড়ী ফিরে ঘণ্ট। দুয়েক হল্লোড় ক'রে কল-ঘরে ঢোকবাঁর রীতি বা সাহস তখনকার মেয়েদের ছিল ন!।

চুড়িওয়ালা হেঁকে চলেছে স্বর ক'রে--এক বাড়ীর ওপরকার বারান্নার চিক ফাক ক'রে সরু-গলায় কে যেন ডাকলে-_চুড়িয়াল| !

চুড়িওয়ালার সজাগ কান নারীকণ্ঠের এই ক্গীণ আহ্বানের অন্ত সর্বদাই প্রস্তত হয়ে থাকে।

সে থেমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলে-_-কোন্‌ বাড়ী গো?

_-এই ধে, এই বাড়ী।

সদর দরজ! খুলে গেল। চুড়িওয়াল! বাড়ীর মধ্যে ঢুকল-_তার পেছনে পেছনে পাড়ার একপাঁল ছোট ছেলেও ঢুকে পড়ল।

চুড়িওয়ালা উঠোনে তার সেই বিরাট, ঝোড়! নামিয়ে একখান! চার-চৌকে। পিচবোর্ডের টুকরো! দিয়ে হাওয়! খেতে লাগল ইতিমধ্যে বাড়ীতে যত মেয়ে আছে তার! একে-একে চুড়িওয়ালার মাদনে.এফে

১% (প্রভাত )--২

দাড়াতে লাগল-_বৃদ্ধা, প্রৌঢ়, যুবতী, কিশোরী, বালিকা, শিশু--গৃহিণী দাসী, কন্তা, বৌ-_সধবা, বিধবা, পতিসোহাগিনী বাঁ পতিপরিত্যক্তা কেউ বাদ গেলেন না।

' চুড়িওয়ালা তার বোঁচকার বাঁধন খুলে ফেলল। ওপরেই নান! রকমের খেল্না, বাণী, চক্চকে ফুলদাঁনী ইত্যাদি মনোহারী জিনিষ। দেখামান্র ছেলেদের মধ্যে আন্দোলন গুরু হোলো-_তারা সবাই মিলে সশব্ধে এই জিনিষগুলি সম্বন্ধে আলোচনা নিজেদের অভিজ্ঞতা জাহির করতে লাগল। এরই মধ্যে মেয়েদের চুড়ি দেখানো! আরম্ভ হোলো .

এই চুড়িওয়ালারা প্রায়ই ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান। কর্থাবার্তা ছিল মিষ্টি, মুখে একেবারে মধু মাথানো যাকে বলে। তাদের অমান্থষিক তিডিক্ষা আজকের দিনে যে কোন ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ছুর্নত। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তারা সংসারে কোন মহিলার স্থান কোথায় তাবুঝে নিয়ে বড়মা, ছোটমা, বৌমা, দিদিমণি প্রভৃতি ডাঁক গুরু ক'রে দিত।

তার পরে সেই মেয়ে-সভায় চুড়ি পছন্দ করানো-_বাীকা-সুটের পক্ষে অতি জটিল-রকমের অপারেশন করাও বোধ হয় তার চাইতে সোজা একটা! দৃষ্টান্ত দিই__

পাঁচ জন মহিলা একটি ছোট মেয়ে হয়ত চুড়ি পরবে। প্রথমে ছোট মেয়েটির চুড়ি পছন্দের পালা পঁচিশ রকমের চুড়ি দেখাবার পর এক রকম চুড়ি পছন্দ হোলে! দরে আর কিছুতেই বনে ন1। চুড়িওয়ালা ৰার-ছুয়েক তাঁর বোচকা! বেঁধে ফেল্লে। শেষকালে সব ঠিক হ,য়ে যাবার পর চুড়ি পরাতে যাচ্ছে, এমন সময় এক জন বলে উঠলেন যে, তার মামার বাড়ীক্প পাড়ায় একজনের বাড়ীতে বেড়াতে গিয়ে একটি ছোট মেবের হাতে ঘু-গাঁছি চুড়ি তিনি যে দেখেছিলেন-_আঁহা, দে এফেধারে চোখ জুকিয়ে' যাক!

১৮

চুড়িওয়ালাকে সেই চুড়ির বিবরণ শুনিয়ে বলা হোলো--সেই রকম চুড়ি দেখাও

চুড়িওয়াল| অতি বিনীতভাবে বললে-_ন! মা, দে রকম চুড়ি আমার কাছে আঙ্গ নেই, বলেন তে এনে দিতে পারি।

থুকুর মা এই সুযোগে খুকুকে ফাঁকি দেবার তালে তাকে বললেন - তোকে ভাল চুড়ি পরে এনে দেবে, আজ আর চুড়ি পরিস্নি।

থুকু অমনি পে ধরলে সকলে মিলে তাকে বোঝাতে লাগলেন যে অচিরেই তার জন্য এমন ভাল চুড়ি আসবে যে সে বুকমটি আর কাকুর হাতেই দেখতে পাওয়া যায় না।

বাক্যটির ব্যঙ্গার্থ ধরে ফেলে খুকুমণি তার স্থুর আরও এক গ্রাম উচ্চে তুলে দিলে। খুকীর মা সহ করতে ন! পেরে রেগে তাকে দিলেন ঘা হু-তিন।

কিন্ত খুকু তো আর খোকা নয়। যে-পাপ থেকে তাকে নিবৃত্ত করবার চেষ্টা করা হচ্ছে সে-পাপে সহজাত অধিকার নিয়েই যে সে এসেছে--সে থামবে কেন! একটা মহা! হট্টগোলের পর সাব্যস্ত হোলো আচ্ছ! ত1 হোলে চূড়িই খুকীকে পরিয়ে দেওয়! হোঁক।

খুকীর বেলাতেই যদি এই হয় তা হোলে খুকীর মা, খুড়ী, জেঠিদের ব্যাপারটা সহজেই অনুমেয়

এর পরে চুড়ি পরবার পাঁলা। দে এক লাঠালাঠি, ফাটাফাটি ব্যাপার! কারণ, সকলেই চান যে, চুড়ি হাঁতের কবজিতে একেবারে সেঁটে বসে যাবে। তাদের অধিকাংশের কব.জিতেই যে ছোট যেয়েদের মল সে'টে বসে যাবার অধিকার রাখে, এক সোনার চুড়ি গড়াবার সময় ছাড়! সে খবরট! তীর! প্রায় একেবারে ভুলেই বেতেন। নেই গুণ-ছু'চের ছ্যাদায় জাহাজের কাছি সরার কমরৎ বালক-সহলে খুখই উপচ্চোগ্য ছিল।

এত কাণ্ডের পর, বোধহয় ঘণ্টা দেড়েক বাদে চুড়িওয়াল৷ এক বাড়ী থেকে মুক্তি গেল। এত ক'রে তাঁরা লাভ করত কি ক'রে তাই ভাঁবি-_ কারণ পরাঁতে-পরাতে চুড়ি ভেঙে গেলে তা চুড়িওয়ালার যেত--বোধহয় চুড়ি পরানোটুকুই ছিল তাদের লাভ।

চলেছে ফেরিওয়ালা এক-এক জন এক এক স্বরে হেকে--আমাদের মগজে চিত্রবহার তরজ তুলে বাসনওয়াল। চলেছে, তারা হাকে না বাজায়। রকমারি বাজন! সে-_গি্লিরা শুনেই বলে দিতে পারতেন, কার কাছে কি ধরণের বাসন পাঁওয়া যায়। প্র যায় বেদের মেয়ে, পিঠে পৌট্‌লা বাধা আীণ দেহযষ্টি কিন্ত তীক্ষ চীৎকার ক'রে ভারতের রাজধানীর বুকের ওপর দিয়ে ঘোষণা করতে-করতে চলেছে--ব্যাত ভালে! করি-_ দাতের পোক। বের করি--এমন মন্ত্র ঝাড়বে যে দাতের পোকার বাবা তো দুরের কথা তাদের তিন কুলে যে যেখানে আছে পিল্‌-পিল্‌ ক'রে বেরিয়ে আসতে পথ পাবে না শুনতুম ওর! না কি আরও অনেক সাংঘাতিক রকমের তুক্‌-তাক্‌, ঝাড়-ফু'ক, মন্ত্র-তন্ত্র জানে, কিন্ত ছাড়ে না।

বু আসে মাড়োয়ারী কাপড়ওয়ালা__রামশিঙের মতন আওয়াজে পাড়া কীপিয়ে--একটি--য়াকায়--তিন খা--না কাপড়--একৃখি-- যান! ফাউ!!!

টাকায় চারখান। ধুতি! হোক না ৫কন সে পাঁচ-হাতি ! আজ যে একখানা রুমালের দাম পাঁচ সিকে। কিন্ত আশ্চর্য! সেদিনও মাতব্বরদের মুখে শুনেছিলুম--কি ছুদিনই না পড়েছে !

ছুর্দিনের জয়ডস্কা কালের বুকে চিরদিনই বেজে চলেছে মান্য রাজ্য জয় করবার কৌশল শিখেছে বটে কিন্তু ছুর্দিনের কাছে তাকে চিরকাল হার মানতে হয়েছে। রি

এই দুপুরের যাত্রীদের মধ্যে আর এক জনের কথা মনে পড়ছে--সে ছিগ ভিখারী, অন্ধ ভিথারী। খুব ল্থা-চওড়া হৃ্পুষ্ট চেহারা ছি

২৩

তার--বিশেষ কোরে প| ছু-ধান! ছিল তার অস্ভুত। অত বড় লক্বা-চওড়া শক্তিব্যঞ্জক পা পালোয়ানদের মধ্যেও দুর্লভ। ডান হাতে তার মাথ। সমান উচু একট| মোটা! বাশের লাঠি ঝুলত আর ব1 হাতে ঝুল্ত একট রোগা কালো মতন প্যাংল। মেয়ে।

অন্ধ আবার গান গাইত। বেমন ছিল তার বিরাট দেহ, তেমনি ছিল তার কণন্বর। উঃ, সে যেমন গম্ভীর, তেমনি কর্কশ তীক্ষ। কিন্তু গাইয়ে হওয়ার পক্ষে এতগুলি প্রতিকূল গুণাবলীর সমাবেশ সন্বেও তার গান পড়শীদের বুকে করুণার প্রশ্রবণ ছুটিয়ে দিত, এমনি দরদ ছিল তাতে

অন্ধ গাঁন গেয়ে চলেছে কর্কশ কণ্ে, কিন্তু তার সমন্ত অক্ষমতা ভেদ কঃরে হৃদয়-বেদন! শতধা! উৎসারিত হচ্ছে।

অন্ধ গান গেয়ে চলেছে, সে গান নিশ্চয় তাঁর নিজের রচনা নয়। চমৎকার গান--অন্ততঃ সে সময় খুবই ভাল লাগত আজ সে গানের কথ! স্থর স্বতি থেকে মুছে গেলেও ভাবটা মনে আছে।

অন্ধ গান গেয়ে চলেছে-_অন্ধের যা কট ত1 ধৃতরাষ্্ই জানেন আর জানেন দেই অন্ধ মুনি--তিন যুগের ব্যথার ঢল নামল স্তব্ধ ছুপুরের বুকে ! গান শেয়ে চলতে-চলতে এক জায়গায় এসে অন্ধ দাড়িয়ে বললে-_মা জননী, অন্ধকে একটি পয়সা দিন।

সঙ্গে-সঙ্গে সেই মেয়েটা পি-পি শব্দে টেনে- নে স্থর ক'রে চীৎকার করতে আরম্ভ করলে--ম! গো দয়া ক'রে অন্ধকে একটি পয়সা দিন।

হয়ত কোনো গৃহস্থবধূ তাকে একটা। পয়স| দিলে কিংবা কি কিছু দিলে না। অল্প কিছুক্ষণ চেঁচামেচি ক'রে আবার অন্ধ ফিরলে সামনের দিকে, আবার সুরু হোলে! সেই গান আবার সুরু হোলো তার যা!

: অন্ধ গান গেয়ে চলেছে-আমি গুনেছি মাথার ওপরে নাকি

আকাশ আছে, তার রং নাকি নীল। রাত্রিবেলা নাকি আকাশে

বাহ্ঝক্ষে সব তারা ফোটে, সে দৃশ্য নাকি খুব সুপ্দর। কিন্তু নীল বা ঝকঝকে কাকে বলে তা আমি জানি না--আমি তো! জন্ধ।

তার সেই নিদারুণ অভিযোগ আমাদের অন্তরে যে তরঙ্গ তুলত তা৷ একমাত্র বালক-মনেই সম্ভব

অন্ধ গেয়ে চলল--গুনেছি নাঁকি গাছে নানারকম ফুল হয়, বিচিত্র তাদের রং রূপ। সেখানে না কি প্রজাপতি ওড়ে, তাদের রং রূপ বিচিত্রতর। হায়! আমি যে অন্ধ, আমার কিছুই দেখা হোল না।

তার গানের মধ্যে একটা কথা বিশেষ ক'রে মনে আঁজ্ছে যেটা শাশ্বত সত্য প্রত্যেক লোকেই জীবনে তা হয়ত বহুবার উপলব্ধি করেছেন। সে কথাটি হচ্ছে-_জাখি নেই বিধি দিলি আঁখি জল-.

এই অন্ধের সঙ্গে ছেলেবেলার আর একটি স্বতি জড়িয়ে আছে। আমাদের বাড়ির প্রায় সামনেই একজনেরা! থাঁকতেন। ভাড়াটে বাড়ি হোলেও বেশ বড় বাড়ি, অবস্থা সচ্ছল ছিল তাদের। ছেলের! ছু-জন কলেজে পড়ত আর ছু-জন চাঁকরী করত। বাড়ির কর্তা ভাল চাকরি করতেন--চোগ] চাঁপকান পরে ছুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়াটে গাড়ি চড়ে রোজ আপিসে বাঁওয়া-আসা করতেন এছাড়া দেশে জমি-জম! ছিল এবং সেখান থেকে আমদানীও মন্দ ছিল না। সেখান থেক প্রায় তরি-তরকারী ফল-মূল আস্ত এবং বাঁড়ির গিষক্সি পাড়ার প্রায় সব বাড়িতেই সে সব জিনিষ বিতরণ করতেন। তাদের বাড়িতে ছোট ছেলে-পিলে কেউ ছিল না বটে, কিন্তু গিন্নির মেজাজ ব্যবহারটি এমন মধুর ছিল যে পাড়ার অধিকাংশ ছোট ছেলে মেয়েদের আডড! ছিল সেখানে ! বাড়ির কর্তা মাঝে-মাঝে ছেলেদের চার নম্বরের ফুটবল কিনে দিতেন-_-বিকেলে তাদের বড় উঠোনে আমরা খেলতুম পাড়ার প্রীয় সব ছেলেই এখানে বাতায়াত করলেও আমর! ছু-ভাই এদের তারি শ্রিরপাজ ছিলুম, বোঁধ হয় সামনা-সামনি বাড়ি থাকায়।

১৬০

কিছু ছ্গিন পরে বাঁড়ির বড় ছেলের বিয়ে হোলো।। বিয়ে, ফৌজাত প্রভৃতি সেরে তীর! দেশ থেকে কিরে এলেন। আমরা বৌ দেখলুস। অমিদারের মেয়ে, রং খুব ফর্শা ন! হোলেও বেশ দেখতে--বছর চোদ্- পনেরো হবে। চমৎকার হাসি-হাঁসি মুখ, টানা-টানা চোখ বিদেশে শ্বপতরবাড়িতে এসে তখনকার দিনে মেয়েরা যে-রকম কার়াকাটি করত তার সেরকম কোন বাঁলাই ছিল না, বরং আমাদের মতন এত্তগুলি বাচ্ছ! দেওর দেখে সে বেশ খুশিই হয়ে উঠল। কনে-বৌ অবস্থাতেই সে একদিন গাছ-কোমর বেধে আমাদের সঙ্গে উঠোনে নেমে পঞ়্ল, ফুটবল খেলতে কিন্তু সে প্র এক দিনই, খুব সম্ভব তাঁর শাশুড়ী বারণ ক'রে দিয়েছিলেন। তবে অনেক দিন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে সমানে ঝগড়া ক'রে ভ্যাংগুলি খেলেছে

যা হোক, এটুকু মেয়ে-_-আমাদের চাইতে আর কতই বা বড় ছিল সে, সেই এক পাল ছেলেকে সে একবারে হাতের মুঠোর মধ্যে এনে ফেলেছিল। এমনি ছিল তার আঁকর্ষণী শক্তি। ঘুখের কথা খসবার আগেই আমরা তার কাজ ক'রে দিতুম। বৌদির কোনো ছুঃখই ছিল না, অন্তত আমরা বুঝতে পারতুম না-_তবে বাড়ী খেকে একল! বেরিয়ে নিজের ইচ্ছামত এর-তার বাড়ীতে খুরে-ঘুরে গল্প কর! অর্থাৎ মনের স্থুথে পাড়া-বেড়াতে পারে না বলে মাঝে-মাঝে আমাদের কাছে চাপ! ছুঃখ প্রকাশ করত।

একদিন দুপুর বেলা আমর! ছু-ভাই এই রকম জানালায় বসে আছি, দূরে অন্ধ ভিখারীর গাঁন গুনতে পাওয়া যাচ্ছে, দুখ স্ুলতেই চোখ পড়ল, বৌদি বারান্দার চিক ফাক ক'রে দূয়ে অন্ধকে দেখবার চেষ্টা করছে। অন্ধ তাদের বাড়ির কাছাকাছি আসতেই মে বারান্দা থেকে লগ্নে গেল।

একটু বাদেই দনেখলুম, বৌদি তাঁদের সমর দরজ। খুলে গলা। বাছিয়ে

১৬]

রাস্তার দু-দিকে দেখতে লাগল- লোকজন কেউ কোথাও আছে কি না! গ্রীষ্মের ছুপুর, রাস্তায় লোকজন নেই, খাঁ-খ! করছে-_-একমাত্র সেই ভিথারী তার হত্তলগ্ন কপ্ত। ছাড়]।

ভিথারী বাড়ীর সাম্নে বরাবর আসতেই বৌদি দরজ! খুলে বেরিয়ে টপ. ক'রে তাদের ৰাড়ীর রকে উঠে গড়ল। রকের ঠিক নীচেই একেবারে ভিতের গা-ঘে'ষে হাত-ছুই চওড়া একটা নদ্ধম! ছিল--সে সময়ে শহরে অনেক রাম্তাতেই দু-পাশের বাড়ির গা দিয়ে রি রকম খোল! নদ্গমা থাকৃত।

দেখলুম, বৌদি বিন! আঁয়াসে একটি লক্ষে একেবারে নদ্দম! টপ কে রাস্তায় পড়ল। তার পরে ভিথারীর হাতে পয়সা দিয়েই মারলে দৌড় বাড়ির দিকে

ভিথারীর আশীবাণী তখনো শেষ হয়নি-_দরজাঁর সামনেই আমের থোশাঁয় পা পড়ে বৌদি সশব্দে আছাড় খেল, সেই নন্দদা-ঢাকা পাথরের ওপরে।

ভিথায়ী গান গাইতে-গাইতে চলে গেল! আমর! দেখছি, বৌদি আর ওঠে না। ছু-একবাঁর ধেষড়ে ধেঁষড়ে দরজার দিকে এগিয়ে যাবার চেষ্টা ক'রে এলিয়ে পড়ল !

আমরা ছুটে বেরিয়ে গিয়ে তার হাত ধরে তোলবার চেষ্টা করতে লাগলুম, কিন্ত আমাদের সাধ্য কি যে তাকে তুলি! শেষকালে কোনো রকমে হেঁচড়ে-টেনে তাঁকে বাড়ীর মধ্যে নিয়ে গেলুম

: বৌদি প্রাণপণ চেষ্টা করতে লাগল, কিন্ত কিছুতেই ধ্ঁড়াতে কিংবা চলতে পারলে না--কাদতে-কাদতে আমাদের বললে--কোনেো। রকমে মাকে ঘরে নিয়ে চল।

ছুই ভাই তার ছুই হাত ধরে ছেচড়াতে ছেঁচড়াতে নী গিয়ে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিলুম। যন্ত্রণার চোটে দেখতে-দেখতে

২৪

তার মুখখানা একেবারে বিবর্ণ হয়ে উঠল। আমরা ভার কষ্ট দেখে ব্যতিব্যস্ত হ'য়ে তার শাণগুড়ীকে ভাঁকবার উপক্রম করছি দেখে সে বললে-_ এখন যা, বিকেলে আসিস্‌-_কারুকে কিছু বলিস্‌্নি হেন!

বিকেলে সেখানে যাঁওয়া হয়নি | সন্ধ্যা বেলা মা বললেন--.ও-বাঁড়ীর বৌমার কি হয়েছে, ছু-ছু-জন ভাঁক্তীর এল।

পরের দিন বিকেলে বৌদিকে দেখতে গেলুম। এক দিনেই তার চেহাঁরা একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে, শুনলুম, কল-ঘরে পড়ে গিয়ে 'তার পায়ের হাঁড় ভেঙে গিয়েছে, কাল সকালে অজ্ঞান ক'রে হাড় জোড়া লাগানো! হবে।

একটু নিরাল! হ'তেই বৌদি আমাদের বললে-_-একট! কথা বলব, রাখবি ভাই?

নিশ্চয় রাখব।

-আমি এদের বলেছি যে কল-ঘরে পা পিছলে পড়ে গিয়ে চোট লেগেছে ভিকিরিকে পয়সা দিতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিলুষ জানতে পারলে এরা আর আমায় আন্ত রাখবে না। লক্ষী ভাই, তোরা কারুকে কিছু বলিস নে যেন।

পরছুঃখকাতরতা তখনকার দিনেও গুণ বলেই বিবেচিত হোঁতো, কিন্ত পরছুঃখে কাতর হ'য়ে বৌ-মানুষের রাস্তায় বেরিয়ে যাওয়া 'অমার্জনীয় ছিল।

বৌদির পায়ে কাঠ বসিয়ে ব্যাগ্ুজ বাধা হোলো বটে, কিন্তু অন্থথ তাঁর আর সারল না। দিনে-দিনে নান! উপসর্গ জুটে অবস্থা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠতে লাগল। দেশ থেকে তার বাঁপ-মা এলেন, সায়েব 'ডাক্তারও এল, কিন্ত কিছুতেই কিছু হোলো! না। ছূ-দিনের জন্ত এসে সবাইকে আপন ক'রে, পাড়াশুদ্ধ ছেলেমেয়েকে কাদিয়ে এক দিন সে চলে গেল।

বিশ্বাস ক'রে এক দিন সে জামাকে বে খণে আবন্ধ করেছিল আজ বিশ্বাসঘাতকতা ক'রে সে খণ শোঁধ করলুম।

জানালার ধারে বসে আছি-_বাইরে জগৎ গড়িয়ে চলেছে, রোদও- গড়াতে-গড়াতে গলি পেরিয়ে চলে গেল। ঠিকে-ঝির। সব কাজে আঁসতে লাগল। বিকেল হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে রাস্তার রংই বদলে গেল।

ছুপুয়ের ফেরিওয়ালার দল চলে গেছে অনেক দুরে। বিকেলের ফেরিওয়ালারা প্রায় খাবার-দাবার সৌখিন জিনিষ বিক্কি করে। একটা জিনিষ সেকালে খুবই চলত, সেট হচ্ছে ব্রাঙ্মণ-বেকারির পীউকুটি-- বিস্কুট | মাথায় টিনের বাক্স, খালি গায়ে গলায় লম্বা! পৈতে-ঝোলানো ব্রাহ্মণ ফেরিওয়ালার দল বেরুত। শীতকালে জামার গলার কাছে পৈতের খানিকটা বের করা থাকত। সেদিনের হিসেবেও সেগুলো ছিল যাচ্ছে তাই খা্য। সেসময় পাউরুটি খাওয়ার রেওয়াজ খুবই কম ছিল, বিশেষ ক'রে মুসলমানের দোকানের কিংবা গ্রেট ইস্টার্ণ হোটেলের পাউরুটি অধিকাংশ বাড়ীতেই ঢুকতে পেত না!

চলেছে বিকেলের ফেরিওয়ালার দল-_ঘুগ নিদানা, নকলদীনা, চীনে- বাদাম, চানাচুর, পাঠার ঘুগনি, ডিমের ঘুগনি, আলুংকাচালু, প্রভৃতি যত সব মুখরোচক প্রাণধাতক অথাস্ত। পাঠার ঘুগ.নি, ডিমের ঘুগনি ছেলের! লুকিয়ে খেত। সাধারণ লোক প্রকাশ্তে মুরগী অথবা মুরগীর ডিম খাওয়ার কথা ভাবতেও পারত না হাসের ডিমও অনেক বাড়ীর ছেঁসেলে ঢুকতে পেত না। বিশেষ ক'রে যে বাড়ীতে উড়ে-বামুন পাঁচক থাকত। এই উড়ে-বামুনের প্রসঙ্গে একটা মজার কথ! মনে পড়ল।

সেকালে, গুধু সেকালে কেন, একালেও অনেক বাঙালী গৃহস্থের: বাঁড়ীতেই উৎকলবাসী ব্রাহ্মণ রাখ! হয় রায় করবার জন্ত। কেন: জানি না, এই জেবীর ব্রাক্গণের ভিমের প্রতি বারুণ রিতৃফ! ছিল। আমাদের একটি বিশেষ জান!লোক উড়্িস্কার কোন দেশীয় রাঁজ্যে চাকরী

ন্গ

করতেন। মাঝে-মাঝে ছুটিতে তিনি বাড়ীতে অর্থাৎ কলকাতায় এসে কিছু দিন ক'রে কাটিয়ে বেতেন। এই রকম সময়ে এক দিন সকাল বেলায় ভন্রলোক বাড়ী থেকে বেরিয়েছেন, এমন সময় সামনের বাড়ীর ঠাকুর কি কাজে বেরুচ্ছিল--পড়ে গেল তাঁর সামনে লোকটাকে তিনি চিনতেন, কারথ চাকুরী-স্থানে তার বাগানে সে দিন-কয়েক মালীর কাজ করেছিল সে ছিল জাতে 'পান” অর্থাৎ হাঁড়ি-মুটী শ্রেণীর--কলকাতায় এসে গলায় গৈতে ঝুলিয়ে বামুন সেজে লোকের জাত মেরে বেড়াচ্ছিল। যেখানে সে কাজ করত, তাঁর : ছিলেন অন্রাঙ্ষণ। তাই রাধুনী-বামুন হোলেও শাঁপমন্তির ভয়ে তীরা তাকে বতদুর সম্ভব সম্রম করেই চলতেন। কিন্ত ধাঁহাতক প্রকাশ হওয়া যে, সে ব্যক্তি ব্রাহ্মণ নয়, অমনি পাড়ার লোকদের সঙ্গে তারাও তাকে ধড়াঁধ্ড় পিটতে আরম্ত ক'রে দিলেন। লোকটা তো পালিয়ে বাচল--তখুনি ঠিকে-গাঁড়ি চড়ে বাড়িগুদ্ধ ছেলেমেয়ে নিয়ে তার! গঙ্গা নাইতে ছুটলেন এত দিনের হজম-কর! পাপ খগ্ডাবার জন্ত। সেদিন আর তাদের বাড়ী হাড়ি চড়ল না। রকম ব্যাপার নিত্য ধরা না পড়লেও অনেক অত্রাঙ্গণকে কলকাতায় এসে দায়ে পড়ে যে ব্রাঙ্ষণ হ'তে হোতো সে কথ! বলাই বাহুল্য।

২৭

ছাতে

ছাতের ছবি সারাদিন ধরেই বদলে চলত সেকালে। বাড়ীর মব চাইতে উচ্চে সবার মাথার ওপরে থেকেও প্রতিদিন: নিজের অঙ্গে সে এত ধূলো মাঁখে কৌথ! থেকে, ছেলেবেলা সে একটা সমস্ত ছিল। তা ছাড়া, আর এক রকম কালো-কালে! গু'ড়ো, ধূলোর চেয়ে একটু শক্ত জিনিষ-_সেগুলোই বা কি? ছু-পা চলতে না চলতে পায়ের তলাটা একেবারে কালো! হ'য়ে যায়!

খুব ভোরে ছাতে উঠে দেখেছি, দূরে এক বাড়ির ছাতে এক জন সন্ত-রোগমুক্ত-রাস্তায় বেরুবার শক্তি নেই বিস্তু চলচ্ছক্তি আছে, ধীরে-ধীরে বেড়াচ্ছে। ছু-এক জন অতি-বৃদ্ধকেও দেখেছি, এই সময় ছাঁতে উঠে ,তার1 আমু বাঁড়াবার চেষ্টা করতেন। রোদ ওঠার সঙ্গে-সঙ্গেই কিন্তু এই দ্বল নীচে নেমে যেতেন। ব্যন্‌, বাড়ীর পুরুষদের সঙ্গে ছাতের সম্পর্ক এই পর্যস্ত। কারণ, অন্ধকার বেশ ঘনিয়ে আসার পূর্বে পুরুষের] আর ছাঁতে উঠতে পারতেন না--পাড়ায় সপ্ভাব রেখে বারা থাকতে চাইতেন তার! নিয়মটির প্রতি খুবই সঙ্গাগ থ|কতেন।

বৃদ্ধ রুগ্নের দল নেমে গেলে ঝি উঠল ছাত বাট দিতে আর সন্ধ্যেবেলায় মেলে-দেওয়া কাপড়ের আগ্ডল কুঁচিয়ে। পাট ক'রে তুলতে। এই ছাত ঝট দেবার সময়ট। ছিল তাদের সকালবেল! বিশ্রামের সময়। একবার ছাতে চড়তে পারলে আর নামবার নামটি নেই। নীচে থেকে গিষ্লির! ঠেঁচাচ্ছেন, ঝিয়ের কানেও পৌচচ্ছে না। যদ্দি বা একবার সাড়া দিলে তে! কাজ তধনো। অনেক বাকি। শেষ

রং

1 7 হন

কালে গালাগালি দিয়ে এক রকম টেনে তাঁকে নীচে নামানো! হোলো-_ ব্যাপার প্রায় প্রতি সংসারেই প্রতিদিনকার ব্যাপার ছিল। অনেক গিশ্নিকেই বলতে শুনেছি যে, ওর! সারা রাত জাগে কি না তাই ছাতে উঠে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু আসল কথা, তার! ছাতে গিয়ে ঘুমোত না, সেখানে গিয়ে জেগে উঠত।

তখনকার দিনে, গুধু তখন কেন এখনকার দিনেও বি-রা থাকে বস্তির মধ্যে খোলার বাড়ীতে সে সব বাড়ী আমর! দেখেছি। ছোট্ট একখানা ঘর, মাটির দেওয়াল, মাটির মেজে, খোলার চাল হয়ত কোনো ঘরে একহাত চৌকে বাঁশের জালি দেওয়া! একটু জানাল! সে মেজেতে শোওয়া যায় না, তাই তক্তাপোঁষ একখানা করতেই হয়। তক্তাপোষের চারটে পায়ার নীচে ইট দিয়ে-দিয়ে সেখানাকে যত দূর সম্ভব উচু করা! কারণ, তক্তাপোঁষের নীচে সেই জায়গাটুকুতে হাড়ি-কুঁড়ি, বাসন, ভাড়ার, জলের কলসী, পানের বাসন প্রভৃতি থাকে এবং সেইখানে বসেই খাওয়া-দাওয়া চলে।

পাশাপাশি ঘর প্রায় চারদিকেই, মাঝখানে ছোট একটি উঠোন। উঠোনের এক কোনে একটা কুয়ে!। : এই কুগ্নোর জলই ব্যবহৃত হয়, যার গতর আছে সে রাস্তার কল থেকে খাবার জল সংগ্রহ করে। ঘরের সামনে হাঁত-তিনেক চওড়া একটু বারান্দা মতন, এই বারান্দা অথবা দাওয়া বার ঘরের সামনে যতটুকু পড়েছে সেইটুকু রান্না করবার জায়গা দ্বাওয়ার চালটা উঠোনের দিকে এতখানি ঝোল! যে,যে-কোনো৷ সাইজের বয়স্ক লোককে প্রায় গুঁড়ি মেরে ঢুকতে হয়, অসাবধান হোলে মাথা বাচানে। দায় ঘরে আলো-বাতাস একদম ঢোকে ন! বললেই চলে। শষ গুনে টের পেতে হয় যে বাইরে ঝড় উঠেছে কিন্তু চার ফোটা বৃষ্টি হোলেও তা চালের ফাঁক দিয়ে ঘরে পড়ে। তার ওপর বাড়ীর মধ্যে কি গন্ধ! উঃ, সে কথা মনে করলেও পাপ হয় !

ত্

এই নরককুণ্ডের মধ্যে বাস ক'রে মনিব-বাড়ীর উচু ছাতে উঠে সকাল বেলাকার সেই বল্মলে আলো, দূর-দিগস্ত অবধি উচু, নীচু ছোট বড় বাড়ী, এর মধ্যে-মধ্যে নারকোল কেছচুড়া ফুলের গাছ, কোন্‌ দূরে কঙ্গের চিম্নি দিয়ে ধোয়! উঠছে, কোন মন্দির-চূড়ার শর্ণকুস্ত ঝক্‌-ঝক্‌ করছে! অনেক-অনেক দূরে মনিমেন্ট দাড়িয়ে আছে, প্রথম দৃষ্টিতেই আবার তাকে দেখ! যায় না. উচু-উচু বাড়ীগুলোর মধ্যে আত্মগোপন করে থাকে -এ সবই যে তার কাছে নতুন, তার জীবনযাত্রার সীমার বাইরে। এই বিন্ময়লোকে জেগে উঠে তার আত্মহার! হয়ে যেত--গিঙ্লির কর্কশ চীৎকারে সঘ্িত ফিরে পেয়ে আবার কাজে লেগে যেত।

আমার কল্পনা নয়। ছেলেবেলায় আমাদের বাড়ীতে একজন ঝি ছিল, তাকে আমরা জন্মাবধিই দেখেছি। খুব বয়স হয়েছিল তার, কোমরটা এমন বেঁকে গিয়েছিল যে হাটবাঁর সময় নীচের দিকে মুখ ক'রে চল্ত। ভোর হ'তে না হ'তে সে আসত। বল্ত, সারা-রাত ঘুম হয় না, রাত পোয়ালেই বেরিয়ে পড়ি বেল! দশটা নাগাদ চলে যেত আবার আসত তিনটেয় আর বাড়ী ফিরত রাত্রি ন-ায়-কোন দিন আমর! আব্বার ধরলে রাত্রে বাড়ী যেত না-_আমাঁদের কাছে শুয়ে গল্প বলত

শরতের মাকে কোন কাজ করতে হোতো! ন! গুধু আমাদের, অর্থাৎ ছোট ছেলেমেয়েদের তদারক করতে হোতো। সে কাঙ্গ যে কতখানি শক্ত তা৷ যেদিন সে কানাই করত সেদিন বাড়ীর সবাই হাড়ে-হাঁড়ে বুষ্ধতে পারতেন শরতের মা তার নিজের জীবনের দুঃখের কাহিনীগুলোকে খুব মর্মম্পর্শী ক'রে বলতে পারত। প্রধানত এই গুণেই সে আমার মতন সাংঘাতিক ছুট, ছেলেকেও বশে এনেছিল। তারই মুখে শুনেছি বে প্রথম-গ্রথম চাকরী করতে এসে ছাতে গিয়ে চারিদিকের দৃষ্তের মধ্যে সে. নিজেকে হারিয়ে মিগাপাজি জায়গায় এই আপনাধে চাকরীও গিয়েছে।

শরতের মার 'আর একটি গুণ ছিল এই যে, তাকে ব'কে-ঝ!কে গালাগালি দিয়ে কেউ রাগাতে পারত ন!। গালাগালি দিলে মে ফোগলা মুখ হু! ক'রে হাসতে থাকৃত। ছুঃখ পেয়ে-পেয়ে সংসারের কাছে এমন নিঃশেষে সে আত্মসমর্পণ করেছিল যা 'যৌগিজনোচিত”' বললেও অত্যুক্তি হয় না।

শরতের ম! বল্ত যে খুব ছোটবেল! থেকেই সে কাজ করতে আরস্ করেছিল। ভাঁদের দেশের এক বড়লোকের বাড়ীতে তাদের আড়াই বছরের মেয়ের খেলার সঙ্গী হয়ে বখন সে প্রথম চাকরী করতে ঢোকে তখন তার বয়েস আট বছরের বেশী হবে না। বড়লোকের বাড়ী, চতুর্দিকে কত রকমের সব জিনিষ পড়ে থাকে যা তার চোখে আগে কখনো পড়েনি--ভাঁঙ! চুড়ির ঝকৃঝকে টুকরো, কাগজের ভাঙা বাক্স, হাঁত-পা- মাথা ভাঙা